মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ক্যামেরার সামনেই ছাত্রীদের হিজাব খুলতে নির্দেশ (ভিডিও)

কর্নাটকের কয়েকটি স্কুলে ঢোকার আগে ছাত্রীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

 এর আগে হাইকোর্টের একটি অন্তবর্তীকালীন আদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধর্মীয় পোশাকের অনুমোদন দিতে না করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মান্দি জেলায় একটি সরকারি স্কুলের ফটকে ছাত্রীদের থামিয়ে হিজাব খুলতে বলছেন একজন শিক্ষক। ছাত্রীদের তিনি বলছেন, ‘ওটা খোল, ওটা খোল।’

ছাত্রীদের স্কুল ফটকে আটকে দেওয়ার পর তাদের বাবা-মায়েদেরও শিক্ষকদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা গেছে। উত্তপ্ত ঝগড়ার পর ছাত্রীরা হিজাব খুলে স্কুলে ঢুকছেন। দুই মেয়ের এক বাবাকে খানিকটা বিতর্ক করার পর রণভঙ্গ দিতে দেখা গেছে। হিজাব খুলেই তিনি তার মেয়েদের স্কুলে ঢুকিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত হিজাব পরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে অনুরোধ করা হলেও শিক্ষকরা তা মানেননি। হিজাব খুলেই তাদের স্কুলে ঢুকতে হয়েছে।

উদুপি জেলার এক ছাত্রী বলেন, আমি ও আমার সহপাঠীকে বোরকা খুলে স্কুলে ঢুকতে হয়েছে। কিন্তু শিভামগগায় হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় ১৩ ছাত্রী স্কুলে ঢুকতে পারেননি। তাদের মধ্যে দশম শ্রেণির ১০ জন, নবম শ্রেণির দুজন ও অষ্টম শ্রেণির একজন।

স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, আমরা তাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা আমাদের অনুরোধ শোনেননি। বাড়িতে ফিরে গেছেন।

অভিভাবকেরা বলছেন, আমরা সন্তানদের পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছিলাম। তারা বোরকা পরেনি, কেবল হিজাব পরেছিল। তারা সবাই হিজাবে অভ্যস্ত। এর আগে শিক্ষকেরা ঝামেলা না করলেও এবার তারা ছাত্রীদের ক্লাসে ঢুকতে দেননি। আমরা তো সন্তানদের হিজাব খোলার অনুমোদন দিতে পারি না। কাজেই তাদের বাসায় নিয়ে গেছি।

কর্নাটকের মন্ত্রী নারায়ণ গৌদা বলেন, হিজাব খুলতে বলায় সাত ছাত্রী বাসায় চলে গেছেন। তারা ক্লাসে ঢোকেননি।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মান্দি জেলার একটি স্কুলে ক্যাম্পাসে ঢোকার আগে ছাত্রীদের বোরকা খুলতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তারা বোরকা খুলছেন। স্কুলভবনে ঢুকে তাদের বোরকা খোলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

1 টি মন্তব্য: